শিল্পকথাভোরের কলকাতা, ছাদের ভাষা
শহরটা নিচে নয়, উপরে থাকে। জলের ট্যাঙ্ক, অ্যান্টেনা আর শুকোতে দেওয়া কাপড়ের ভিতর দিয়ে কলকাতার আসল মুখ দেখা যায় কেবল ভোরবেলায়।
৪১ টি লেখা
শিল্পকথাশহরটা নিচে নয়, উপরে থাকে। জলের ট্যাঙ্ক, অ্যান্টেনা আর শুকোতে দেওয়া কাপড়ের ভিতর দিয়ে কলকাতার আসল মুখ দেখা যায় কেবল ভোরবেলায়।
সামপ্রতিকপ্রতিদিন লক্ষ মানুষ নদী পেরিয়ে কাজে যান। সেই যাতায়াতের কোনও হিসেব কোথাও রাখা থাকে না।
বইঘরত্রিপল টাঙিয়ে, বইয়ের স্তূপ সরিয়ে, এক বাল্বের আলোয় কলেজ স্ট্রিট প্রতিটি বর্ষা পার করে আসছে।
শিল্পকথাএকটা পুরনো কাঁথা খুলে দেখলে বোঝা যায়, কে কোথায় বসে সেলাই করেছিলেন, আর কেন থেমে গিয়েছিলেন।
বইঘরবটতলার একটি পুরনো প্রেসের হিসেবের খাতা থেকে বেরিয়ে এল তিনশো কম্পোজিটরের নাম।
সামপ্রতিকধর্মতলা থেকে গড়িয়াহাট, সাতনম্বর রুটের শেষ যাত্রার সময় কোনও সংবাদপত্র ছিল না।
শিল্পকথাসিঙ্গল স্ক্রিন হলগুলো বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু প্রোজেকশনিস্টদের কোনও বিদায়সংবর্ধনা হয় না।
বইঘরদুই লেখকের বারো বছরের চিঠিপত্র শেষ হয় একটি অসমাপ্ত প্রশ্নে।
গল্পঘরএকটি গল্প। শীতের দুপুর, একটি উঠোন, আর একজন মানুষ যিনি ফিরে আসেননি।
সামপ্রতিকবর্ষার রাতে কোন রাস্তায় জল জমে, সেটা আবহাওয়ার ব্যাপার নয়।
যন্ত্র যদি মনে রাখে, মানুষ কী ভুলবে।
শিল্পকথাশোভাবাজারের একটি বাড়ি, যার চার পুরুষ ধরে রক্ষণাবেক্ষণ চলছিল, এখন কারো নয়।