মূল লেখায় যান
৫৭৬ চৈত্র ১৪৩৩ রবিবার ঋতু বসন্ত

৫৭৬ চৈত্র ১৪৩৩ . রবিবার

ভোরের আলোয় কলকাতার ছাদ, জলের ট্যাঙ্ক ও অ্যান্টেনার অবয়ব

শিল্পকথা

ভোরের কলকাতা, ছাদের ভাষা

শহরটা নিচে নয়, উপরে থাকে। জলের ট্যাঙ্ক, অ্যান্টেনা আর শুকোতে দেওয়া কাপড়ের ভিতর দিয়ে কলকাতার আসল মুখ দেখা যায় কেবল ভোরবেলায়।

ভোর সাড়ে চারটেয় উত্তর কলকাতার ছাদগুলো একটা আলাদা শহর। রাস্তা তখনও ঘুমোচ্ছে, কিন্তু ছাদে জীবন শুরু হয়ে গিয়েছে। কেউ জলের ট্যাঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখছেন, কেউ কাচা কাপড় মেলছেন, কারও ঘরের আলো এখনও নেভেনি।

এই শহরের স্থাপত্য নিয়ে যত কথা হয়, তার প্রায় সবটাই সামনের দিক নিয়ে। কার্নিশ, থাম, লোহার রেলিং। অথচ কলকাতার সবচেয়ে সৎ মুখ তার ছাদ। সেখানে কোনও সাজানো নেই, কোনও ভান নেই। যা যেমন প্রয়োজন, তেমন করেই বসানো।

ছাদ থেকে দেখলে বোঝা যায় শহরটা কীভাবে নিজের ভিতরে ভিতরে বেড়ে উঠেছে। একতলার উপর দোতলা, দোতলার উপর অস্থায়ী একটা ঘর, তার উপর টিনের ছাউনি। প্রতিটি স্তর একেকটা প্রজন্মের সিদ্ধান্ত, একেকটা পরিবারের প্রয়োজন।

আলো একটু বাড়লে অ্যান্টেনাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এখন আর কেউ ব্যবহার করে না, তবু কেউ খুলেও ফেলেনি। শহর তার পুরনো যন্ত্রপাতি সহজে ফেলে দেয় না, ঝুলিয়ে রাখে, যতক্ষণ না নিজে থেকে খসে পড়ে।

Scroll to Top